ꦇ কলকাতার ট্যাংরায় দে পরিবারের বাড়িতে যে ঘটনা ঘটেছে, সেই রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে প্রশ্নের জট আরও বেশি করে যেন পাকিয়ে যাচ্ছে। বস্তুত, তদন্তকারীদের হাতে থাকা প্রশ্নের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলেও উত্তর পাওয়ার উপায় আপাতত সঙ্কীর্ণ এবং তার নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠছে।
🌳কারণ, ঘটনার সেই অর্থে কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই। প্রত্যক্ষদর্শীর ভূমিকা পালন করতে পারত দে বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি। কিন্তু, সেগুলি তো আগে থেকেই অকেজো করে রাখা হয়েছিল! আর বাড়ির দুই কর্তা বড় ভাই প্রণয় দে এবং ছোট ভাই প্রসূন দে-র কথাবার্তায় ইতিমধ্যেই যথেষ্ট অসঙ্গতি ধরা পড়েছে বলে দাবি সূত্রের। তাই, তাঁদের বক্তব্য কতটা নির্ভরযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।
𝔉এই রহস্যের জট খোলায় সবথেকে বড় চাবিকাঠি হতে পারে প্রসূনের নাবালক ছেলে। কিন্তু, সে এখন কার্যত মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। বুধবার সকালের 'গাড়ি দুর্ঘটনা' কিংবা 'আত্মহত্যার চেষ্টা'য় সবথেকে বেশি আহত হয়েছে সে-ই। তবুও প্রাথমিকভাবে সে কিছু কথা বলেছে বলে দাবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের। কিন্তু, সেটাও অসংলগ্ন। তাই এক্ষেত্রে আগামী দিনে প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিয়ে ওই নাবালকের বয়ান নিতে পারে পুলিশ। কিন্তু, তার জন্য তদন্তকারীদের আপাতত অপেক্ষা করতে হবে।
𓃲পুলিশের সামনে আপাতত যে প্রশ্নগুলি রয়েছে, তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল - দুই দে ভাইয়ের প্রাথমিক বয়ান অনুসারে,
ও১) দেনার দায়ে তাঁদের পুরো পরিবারই নাকি গত সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫) আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল! একথা কি আদৌ সত্যি?
ꦇ২) যদি গণ-আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত সত্যি হয়, তাহলে শুধু বেছে বেছে বাড়ির তিন মহিলা সদস্যের মৃত্যু কেন হল?
🌳৩) এই তিন মহিলা সদস্য কি আদৌ আত্মহত্যা করেছেন বা করেছে? কারণ, তথ্যাভিজ্ঞ মহল বলছে, এখানে খুনের সম্ভাবনাই বেশি।
𒅌৪) সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ করা হল কেন? কে করল?
ꦬ৫) বাড়ির তিন মহিলা সদস্যের মৃত্যুর পর বাড়ি বন্ধ করে গাড়ি নিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে কোথায় ঘুরছিলেন দে ভাইরা? যদি আত্মহত্যাই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে এই মাঝের সময়টা কী করছিলেন তাঁরা?
ও৬) বাইপাসের কাছে মেট্রোর পিলারে সজোরে গাড়ির ধাক্কা - এটা কি আদৌ আত্মহত্যার চেষ্টাই ছিল? নাকি খুন করে পালাতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা?
ꦡ৭) পরিবারের দুই নাবালক সদস্য, বাড়ির দুই সন্তানকেও কেন রেয়াত করা হল না? বাবা-মায়েরা কি জেনে-বুঝেই নিজেদের সন্তানদের প্রতি এত নিষ্ঠুর হলেন? যার ফলে একজনের মৃত্যু হল এবং অন্যজন বর্তমানে তার বাবা-জ্যাঠার থেকেও অনেক বেশি জখম হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে!
ꦡ৮) সবথেকে বড় কথা, প্রণয়-প্রসূন পুলিশের কাছে নাকি দাবি করেছেন যে মেট্রোর পিলারে সজোরে গাড়ি ধাক্কা মারার আগে তাদের পরিবারের জীবিত কনিষ্ঠতম সদস্যটিকে নাকি গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলেছিলেন তাঁরা! কিন্তু, সে নাকি রাজি হয়নি! একথা কি আদৌ সত্যি?
ꦐহাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রণয়-প্রসূন এখন অনেকটাই স্থিতিশীল। তাদের হয়তো শীঘ্রই আইসিইউ থেকেও বের করে আনা হবে। কিন্তু, আহত নাবালকের অবস্থা এখনও যথেষ্ট উদ্বেগের। পুলিশ ইতিমধ্যেই চিকিৎসকদের অনুমতি নিয়ে দুই ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেছে। নাবালক সুস্থ হলে তার সঙ্গেও কথা বলা হবে।